ভারতের সংবিধানের কোন অংশে কল্যাণকামী রাষ্ট্রের আদর্শ ঘোষিত হয়েছে?
Aরাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি
Bমৌলিক অধিকার
Cপ্রস্তাবনা
Dসপ্তম তফসিল
Answer & Solution
Correct answer: A. রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি
উত্তর: A. কল্যাণকামী রাষ্ট্রের আদর্শ (IDEAL OF WELFARE STATE) রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতিতে (DPSP) ঘোষিত হয়েছে।
সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি (অংশ IV, অনুচ্ছেদ ৩৬-৫১) ভারতীয় রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক লক্ষ্যগুলি নির্ধারণ করে।
আইরিশ সংবিধান (১৯৩৭) থেকে অনুপ্রাণিত এবং সপ্রু কমিটির রিপোর্ট দ্বারা প্রভাবিত এই নির্দেশগুলি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়, তবে 'দেশ পরিচালনায় মৌলিক' (অনুচ্ছেদ ৩৭)।
নির্দেশমূলক নীতিগুলি সম্মিলিতভাবে একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের আদর্শকে রূপ দেয় — এমন একটি রাষ্ট্র যা আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে, সমতার ভিত্তিতে সম্পদ বণ্টন করতে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে, দুর্বল অংশকে রক্ষা করতে এবং সার্বিক জনকল্যাণ সাধনে সক্রিয়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মূল ধারাগুলি:
- অনুচ্ছেদ ৩৮: জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধিতে রাষ্ট্র সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচারপূর্ণ একটি সমাজব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
- অনুচ্ছেদ ৩৯: সাধারণ কল্যাণের জন্য সমাজের বস্তুগত সম্পদের সুষম বণ্টন; সম্পদের কেন্দ্রীকরণ রোধ; নারী-পুরুষের সমকাজে সমবেতন; শিশুদের কল্যাণ।
- অনুচ্ছেদ ৪১: কাজ ও শিক্ষার অধিকার এবং বার্ধক্য, অসুস্থতা, অক্ষমতা ও বেকারত্বের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪২: কাজের ন্যায্য ও মানবিক পরিবেশ এবং মাতৃত্বকালীন ত্রাণের ব্যবস্থা।
- অনুচ্ছেদ ৪৩: শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত জীবনযাত্রার মান ও ন্যূনতম পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫: ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রাথমিক শৈশবকালীন যত্ন ও শিক্ষার ব্যবস্থা।
- অনুচ্ছেদ ৪৬: তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য দুর্বল অংশের শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৭: পুষ্টির মান ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি; ক্ষতিকারক মাদক ও পানীয় নিষিদ্ধকরণ।
এই বিধানগুলি ভারতীয় রাষ্ট্রকে একটি সাধারণ 'পুলিশ রাষ্ট্র' (ন্যূনতম নৈশপ্রহরী রাষ্ট্র) থেকে একটি জনকল্যাণকামী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করে।
অন্যান্য বিকল্পগুলি কেন ভুল:
(B) মৌলিক অধিকার (অংশ III) — রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা করে, যা মূলত 'নেতিবাচক স্বাধীনতা' বা রাষ্ট্রের ওপর বিধিনিষেধ। এগুলি সরাসরি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের লক্ষ্য প্রকাশ করে না।
(C) প্রস্তাবনা — ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের কথা উল্লেখ করে — এগুলি মৌলিক মূল্যবোধ হলেও বিস্তারিতভাবে কল্যাণকামী রাষ্ট্রের আদর্শ কার্যকর করা হয়েছে নির্দেশমূলক নীতিতে।
(D) সপ্তম তফসিল — কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা বণ্টন করে। এতে কল্যাণকামী রাষ্ট্রের কোনো আদর্শ নেই।
উৎস: ভারতের সংবিধান অংশ IV / পাঠ্যক্রম 'ইন্ডিয়ান কনস্টিটিউশন অ্যাট ওয়ার্ক'।
Keep practising Contemporary World Politics
Browse all Contemporary World Politics questions for RRB NTPC, or explore more Political Science topics.
Related questions
The authorization for the withdrawal of funds from the Consolidated Fund of India must comKarl Marx explained the process of class struggle with the help of which one of the followThe power to increase the number of judges in the Supreme Court of India is vested inThe power of the Supreme Court of India to decide disputes between the Centre and the StatIn the Constitution of India, promotion of international peace and security is included inWhich one of the following Schedules of the Constitution of India contains provisions regaWhich one of the following is the largest Committee of the Parliament?There is a Parliamentary System of Government in India because the